স্টাফ রিপোর্টার”শাকিল মোল্লা
গাজীপুর মহানগরীর দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে সহজলভ্য মূল্যে চাল-আটা পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে ৪০ জন নতুন ওএমএস (খোলা বাজার বিক্রয়) ডিলার নির্বাচিত হয়েছেন, যারা আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা ২৪ টাকায় বিক্রি করবেন।
*আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু**
জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই লটারি প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক **আহাম্মদ হোসেন ভুঁইয়া** (সভাপতি), সহকারী কমিশনার **মাহবুবুল আলম**, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার **মোজাম্মেল হোসেন**, সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা **ফিরোজ আল মামুন**, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক **শফি আফজালুল আলম**, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক **নাইয়ারানু**, এবং জেলা কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক **সোহেল আহমেদ সুফল**। প্রশাসনের এই বহুস্তরীয় উপস্থিতি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ।
### ⚖️ **লটারি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত**
– **আবেদন ও বাছাই**: মোট ৪২৩ জন আবেদনকারীর মধ্যে কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে ৬২ জন বাদ পড়েন। অবশিষ্ট ৩৬১ জনের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে ৪০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়।
– **ওএমএস কেন্দ্রের পরিসর**: গাজীপুরের ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট ৬৯টি ওএমএস কেন্দ্র সক্রিয়। গত লটারিতে ২৮ জন ডিলার নির্বাচিত হয়েছিলেন; এবার অবশিষ্ট ৪০টি কেন্দ্রের জন্য ডিলার বাছাই করা হয়েছে।
– **মূল্য নির্ধারণ**: নির্বাচিত ডিলাররা সরকারি নির্ধারিত দামে **চাল ৩০ টাকা/কেজি** ও **আটা ২৪ টাকা/কেজি**-এ বিক্রি করবেন, যা বাজার মূল্যের তুলনায় ৪০-৫০% কম ।
**ডিলারদের কার্যকরী এলাকা**
লটারিতে নির্বাচিত ডিলাররা গাজীপুরের নিম্নোক্ত কৌশলগত এলাকাগুলোতে সেবা প্রদান করবেন:
*Table: গাজীপুরে ওএমএস ডিলারবণ্টনের এলাকাভিত্তিক তথ্য*
| **উপজেলা/এলাকা** | **নির্বাচিত কেন্দ্রের উদাহরণ** | **পোস্ট কোড** |
|—————————|————————————————–|————–|
| গাজীপুর সদর | গাজীপুর হেড অফিস, কাশিমপুর, কনাবাড়ি | ১৭০০ |
| কালিয়াকৈর | বোয়ালী, শাহবাজপুর, ডেওয়ার বাজার | ১৭৫০ |
| শ্রীপুর | রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট, মাওনা, সত্যখামির | ১৭৪২ |
| কাপাসিয়া | টোকেনায়ন বাজার, সিংগুয়া, হাজিরবাজার | ১৭৩০ |
| কালিগঞ্জ | উলুখোলা, ভাওয়াল জামালপুর, সন্তান পাড়া | ১৭২০ |
*উপাত্ত: ডাক অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলা পোস্ট কোড তালিকা *
*অধিকর্তাদের বক্তব্য**
স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক **আহাম্মদ হোসেন ভুঁইয়া** জানান, *”ওএমএস ডিলার নির্বাচনে স্বচ্ছতা অগ্রাধিকার পেয়েছে। লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করেছি যে কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই প্রকৃত সেবাকর্মীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন।”*
খাদ্য নিয়ন্ত্রক **শফি আফজালুল আলম** যোগ করেন, *”গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকায়, বিশেষত শ্রীপুর ও কাপাসিয়ার মতো গ্রামীণ অঞ্চলে, ন্যায্যমূল্যে খাদ্য পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।”*
**সম্ভাব্য প্রভাব**
এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাজীপুরের **১.৫ লাখ** নিম্ন আয়ের পরিবার মাসিক ১০ কেজি হারে চাল-আটা পাবে। বিশেষ করে বস্তি, দিনমজুর ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি, বাজারে চালের দাম বর্তমানে **৬০ টাকা/কেজি** থাকায় এই উদ্যোগ দরিদ্রদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে ।
*ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা**
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত ডিলারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করে লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়ানো হবে।
### উপসংহার
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, প্রশাসনিক স্বচ্ছতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লটারির চাকতি ঘুরতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষ থেকে স্থানীয় নেতাদের উৎসুক দৃষ্টি—সবাই মিলে যেন দেখছিলেন কীভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে বাছাই হচ্ছে তাদের সেবক। আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে ন্যায্যমূল্যের চাল-আটা বিতরণ, যার উষ্ণতা পৌঁছে যাবে গাজীপুরের প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের ঘরে।
**গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। রেশন কার্ডধারীদের তালিকা হালনাগাদ করতে স্থানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।**