স্টাফ রিপোর্টার:শাকিল মোল্লা :
দেশে ভূমি প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গাজীপুরে একটি মামলার রায় ঘোষণা করে সে রায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলকারীকে উচ্ছেদ করে মূল মালিককে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।
আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভূমি হুকুম দখল কর্তকর্তা (এলএও) ইশতিয়াক আহমেদ।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: কায়সার খসরু জানান, দেশে ভূমি প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন কার্যকর হওয়ার পর এ আইনে এটিই প্রথম কোন রায় ঘোষণা করা হয়েছে। যা আজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে, আইনে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে মামলার রায়ে ন্যায় বিচার পেয়ে মামলার বাদী ও জমির মূল মালিক ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বাদী ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানার পশ্চিম ভুরুলিয়া এলাকার মৃত শেখ হাদু রহমানের ছেলে শেখ শাহ জামাল চলতি বছরের গত ১৬ জানুয়ারি গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ (পিটিশন মামলা নং- ১২/২০২৫) দায়ের করেন। উক্ত মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাথীন সাং-পশ্চিম লক্ষীপুরা এলাকার মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ পারভেজ মিয়া, মোঃ পলাশ মিয়া, মোঃ আলাউদ্দিন গং গাজীপুর মহানগরীল সদর মেট্রো থানাধীন চান্দনা মৌজায় বাদীর পৌনে ৯ শতাংশ জমি হতে বাদীকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ বা দখলচ্যুত করার অভিযোগ করে মামলায় বাদীকে তার দখল পুনর্বহাল করার জন্য আবেদন করেন।
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে গত ১৩ এপ্রিল গাজীপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার বিজ্ঞ আদালত নির্দেশনা প্রদান করেন। সে আলোকে গত ৭ মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন, ২য় পক্ষের লিখিত জবাব ও দাখিলকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। আদালতের কাছে প্রমাণিত হয় যে, আবেদনকারী আইনানুগভাবে তফসিলভুক্ত ভূমি দখলে রাখবার অধিকারী ও তিনি উক্ত ভূমি দখল করছিলেন। এছাড়াও বিবাদীগণ আইনানুগ প্রক্রিয়া ব্যতীত বাদীকে উচ্ছেদ বা দখলচ্যুত করেছেন।
একারণে চলতি বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে আদালত বিবাদীগণকে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে অবৈধ দখল পরিত্যাগ করে বর্ণিত জমি থেকে স্থাবর-অস্থাবর স্থাপনা (যদি থাকে) নিজ দায়িত্বে অপসারণ করে বাদীর অনুকূলে ভূমির দখল হস্তান্তর করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদেশে আরো বলা হয়, অন্যথায়, বিবাদীগণের অবৈধ দখল হতে উচ্ছেদ করে আবেদনকারীকে দখলে পুনর্বহাল করা হবে এবং প্রয়োজনে, আপনার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ/ক্রোক করা হবে এবং বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন ও আদেশ অমান্যের কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিন্তু বিবাদীগণ আদালতের আদেশ অমান্য করায় গত ২০ আগস্ট গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সালমা খাতুন পিটিশন মামলা নং-১২/২৫ এর রায় বাস্তবায়নের জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি হুকুম দখল কর্তকর্তা (এলএ ও) কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন।
উক্ত আদশের প্রেক্ষিতে বিবাদীদের দখল থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এ কার্যক্রমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা প্রদান করে।
জমির দখল ফিরে পেয়ে মামলার বাদী ও জমির মূল মালিক শেখ শাহ জামাল বলেন, আমি ক্রয় সূত্রে জমির মালিক। গত ২৩ সালে বিবাদীরা আমাকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করে সেখানে বিবাদীরা টিনশেড ঘর করে ভাড়া দিয়েছিল। বেদখল হওয়ার দুই বছরের মাথায় মামলা দায়ের করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি জমির দখল ফিরে পেয়েছেন। এজন্য তিনি অন্তবর্তী সরকার ও গাজীপুর জেলা প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে উচ্ছেদ অভিযান শেষে জমির মূল মালিকের নিকট দখল স্বত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।