স্টাফ রিপোর্টার:শাকিল মোল্লা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা গাজীপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরের ১৯৪টি এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও বৃদ্ধাশ্রমে **১৭২ টন চাল** বরাদ্দ দেয়। কিন্তু একটি অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে, **কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভুয়া তথ্য** দিয়ে এই সহায়তা আদায় করে তা নগদ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে, যা অসহায় এতিমদের জন্য নির্ধারিত ছিল ।
### **কেলেঙ্কারির বিস্তারিত**
– **ভুয়া দলিল ও কমিটি**: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পুবাইল থানার ৪১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাঠানবাড়ি কাসিম উলুম মসজিদ ও এতিমখানার নামে **৬০ জন এতিমের ভুয়া তালিকা** জমা দেওয়া হয়। একটি **৮ সদস্যের জাল কমিটি** (সভাপতি আতাউর রহমান পাঠান ও সদস্য সুজন পাঠান) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল শিক্ষক হাফেজ আব্দুল কাইয়ুম মাছুমের সহায়তায় ১ টন চাল উত্তোলন করে। পরে এই চালের টাকা কমিটির সদস্য ও ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা ভাগাভাগি করে নেয় ।
– **বাস্তবতা vs. কাগজে কলমে**: সরেজমিন পরিদর্শনে।( একটি টিম লক্ষ করে, ওই এতিমখানায় **তালা ঝুলছে** এবং ভিতরে একটি ভাঙারির দোকানের মালামাল রাখা হয়েছে। প্রকৃত কমিটি এই ঘটনা জানার পর গাজীপুর ডিসি অফিসে **লিখিত অভিযোগ** দাখিল করে ।
**দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা**
– **ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বক্তব্য**: উপপরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম দাবি করেন, “আমাদের দায়িত্ব ছিল শুধু মাদ্রাসার ফোন নম্বর সরবরাহ করা। বরাদ্দ, যাচাই ও বিতরণের দায়িত্ব ত্রাণ শাখার” ।
– **ত্রাণ শাখার জবাব**: দপ্তরের কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন পাল্টা অভিযোগ করেন, “১৯৪টি প্রতিষ্ঠান যাচাই আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে **বিস্তারিত চিঠি** দিয়ে সহায়তা চেয়েছিলাম” ।
### **ব্যবস্থাপনার গলদ**
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ত্রাণ বিতরণের আগে **মাঠপর্যায়ে যাচাই** বাধ্যতামূলক । কিন্তু গাজীপুরে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়:
– ইসলামিক ফাউন্ডেশন শুধু প্রাথমিক তথ্য দিয়েছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর **অবস্থান বা সক্ষমতা যাচাই** করেনি।
– ত্রাণ শাখা কোনো ধরনের **ফিল্ড যাচাই** ছাড়াই ১৭২ টন চাল বিতরণ করে ।
| প্রতিষ্ঠান | বক্তব্য | দাবি |
|————|———|——|
| **ইসলামিক ফাউন্ডেশন** | “আমরা শুধু তথ্য দিয়েছি” | দায়িত্ব ত্রাণ শাখার |
| **ত্রাণ শাখা** | “যাচাই আমাদের একার কাজ নয়” | ফাউন্ডেশন বিস্তারিত তথ্য দেয়নি |
**স্থানীয়দের ক্ষোভ**
এই কেলেঙ্কারি গাজীপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে **তীব্র প্রতিক্রিয়া** সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “এতিমদের মুখের গ্রাস **আত্মসাতের সাহস** যেন আর কখনো না হয়। দোষীদের **কঠোর শাস্তি** প্রয়োজন” ।
*দাবি ও প্রত্যাশা**
সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে জোর দাবি উঠেছে:
১. **তদন্ত কমিটি** গঠন করে দোষীদের চিহ্নিতকরণ।
২. ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ত্রাণ শাখার **সমন্বয়হীনতা** দূর করা।
৩. ভবিষ্যতে ত্রাণ বিতরণে **বায়োমেট্রিক সিস্টেম** বা তৃতীয় পক্ষের মনিটরিং চালু ।
> “এই ঘটনা শুধু গাজীপুর নয়, সারা দেশের ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় **স্বচ্ছতার অভাব** ফুটিয়ে তুলেছে,।
**আগামীর পথ**
গাজীপুর ডিসি অফিস ইতোমধ্যে অভিযোগটি গ্রহণ করেছে। তবে এখনো **কার্যকর তদন্ত** শুরু হয়নি। এতিমখানাটির দরজায় এখনও তালা ঝুলছে, যা স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, **প্রশাসনিক ব্যর্থতার** নীরব সাক্ষী ।
**তথ্যসূত্র**: ইসলামিক ফাউন্ডেশন গাজীপুর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা গাজীপুর, স্থানীয় সাক্ষাৎকার ।