নিজ প্রতিবেদক :
**অসংখ্য মামলা ঝুলে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নীরবতা, জনমনে ক্ষোভ**
**টঙ্গী, ঢাকা:**
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ধারাবাহিক গুলিবর্ষণ ও হামলার নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ নেতা খবির আহমেদ কবির ওরফে ‘পিস্তল কবির’ আজও আইনের ঊর্ধ্বে। একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয় জনগণ হতবাক, আর ছাত্রনেতারা ক্ষোভে ফুঁসছেন।**মামলার বিস্তারিত: রক্তের দাগে ভরা ইতিহাস**
কবিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর ঘটনাবলি নিম্নরূপ:
– **২০ জুলাই, ২০২৪:** টঙ্গী পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার সামনে ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ। *রাজু* নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হন। তার মা আলেয়া বেগমের দায়ের করা মামলায় (নং ১০, স্বঃ ৩২৯৮(৫)/১, ২১/০৯/২৪) কবির প্রধান আসামি ।
– **৪ আগস্ট, ২০২৪:** উত্তরা পূর্ব থানার আজমপুর এলাকায় পুনরায় গুলিচালনা। *জুবায়ের হাসান ইউসুফসহ* বহু ছাত্র আহত। জুবায়েরের বাবার করা মামলায় (নং ৬/১১৯, স্বাঃ ১৮(৫)১, ২৩/০৮/২৪) কবিরকে মূল হামলাকারী চিহ্নিত করা হয়।
– **৫ আগস্ট, ২০২৪:** উত্তরা পূর্বের ১৬ নম্বর সেক্টরে আজমপুর প্রাইমারি স্কুলের কাছে গুলিতে *এক আইসক্রিম বিক্রেতা নিহত*। নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগমের হত্যা মামলায় (নং ৩/১১৬) কবির ১নং আসামি ।
*তালিকা: পিস্তল কবিরের বিরুদ্ধে মামলাসমূহ*
| **তারিখ** | **অবস্থান** | **ঘটনা** | **মামলা নম্বর** |
| ২০ জুলাই ২০২৪ | টঙ্গী পশ্চিম থানা | ছাত্র রাজু আহত | ১০, স্বঃ ৩২৯৮(৫)/১, ২১/০৯/২৪ |
| ৪ আগস্ট ২০২৪ | উত্তরা পূর্ব থানা | জুবায়েরসহ বহু ছাত্র আহত | ৬/১১৯, স্বাঃ ১৮(৫)১, ২৩/০৮/২৪|
| ৫ আগস্ট ২০২৪ | উত্তরা পূর্ব, সেক্টর ১৬ | আইসক্রিম বিক্রেতা নিহত | ৩/১১৬ |
#### **প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা: মামলা থাকলেও গ্রেপ্তার নেই**
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কবির আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে থানার দালাল *খোরশেদ আলম* ও *খোকনের* সাথে যোগসাজশে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপন করলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে ঘুরছেন । আহত ছাত্র রাজুর মা আলেয়া বেগম জানান, **”মামলার আসামিরা আমাদের হুমকি দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে”**।
#### **ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ক্ষোভ: “২৪-এর চেতনার প্রতি ধৃষ্টতা”**
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক নেতা বলেন, **”৪ আগস্টের হামলার ভিডিও প্রমাণ পুলিশকে দেওয়া সত্ত্বেও কবির গ্রেপ্তার হননি। এটি ২৪-এর চেতনার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ”**। এ প্রসঙ্গে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইস্কান্দার হাবিব দাবি করেন, **”মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে”**। কিন্তু স্থানীয়রা এই বক্তব্যকে ‘প্রহসন’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন ।
#### **বিস্তৃত প্যাটার্ন: রাজনৈতিক সুরক্ষায় অপরাধী**
পিস্তল কবিরের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলায় যুবলীগ নেত্রী *ফারজানা ইসলাম শোভা* গ্রেপ্তার হলেও , কবিরের মতো প্রভাবশালীরা রেহাই পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র *আবরারুল হক আবিরের* বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দৃষ্টান্তও এই ব্যবস্থার দ্বৈত নীতির ইঙ্গিত দেয় ।
#### **জনদাবি: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জবাবদিহিতা**
স্থানীয় অধিবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি:
১. পিস্তল কবিরের সাথে জড়িত থানার কর্মকর্তাদের তদন্ত।
২. মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর।
৩. আহত ও নিহত পরিবারদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সুরক্ষা।
### **শেষ কথা:**
> “পিস্তল কবিরের মুক্ত বিচরণ শুধু বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় দুর্বলতারও প্রতীক। যতক্ষণ না এই ধরণের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, ততক্ষণ ছাত্র আন্দোলন ও গণতন্ত্রের পথে রক্তের দাগ থেকেই যাবে।”
> — **মানবাধিকার কর্মী ড. নাসির উদ্দিন**
**প্রকাশ: ১৩ আগস্ট, ২০২৫**
*সূত্র: আশুলিয়া থানার মামলার দলিল, স্থানীয় সাক্ষাৎকার ও নথিবদ্ধ অভিযোগ* ।