স্টাফ রিপোর্টার:শাকিল মোল্লা।
গাজীপুরের গাছা থানার মালেকের বাড়ি শরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ছুরির আঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আনুমানিক রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে বালুর মাঠ এলাকায় এক চায়ের দোকানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত যুবক হালিম মোল্লা (৩৫) স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, ওই চায়ের দোকানটি বর্তমানে তালাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতুল, হিমেল, রমজান, জিহানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দলবেঁধে হালিম মোল্লার উপর হামলা করে এবং ছুরি দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। আক্রান্ত হালিম মোল্লা ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
দোকানদার মো. পিয়াস মিয়া জানান, তিনি তিন বছর ধরে এ দোকান চালাচ্ছেন। হালিম মোল্লা প্রায়ই তার দোকানে আড্ডা দিতেন এবং ক্যারাম খেলায় মগ্ন থাকতেন। পিয়াস মিয়া বলেন, “রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাদক ব্যবসায়ী রয়েলের অনুসারীরা দোকানের সামনে হামলা চালায়। তারা হালিমের গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে।”
হামলার পর আহত হালিম মোল্লাকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। পরে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর গাছা থানায় informed করা হলে পুলিশের গাছা জোনের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম, এসি (তদন্ত) এবং গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) নিজেই ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান।
এ বিষয়ে গাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে, সন্দেহভাজন রয়েল নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পুলিশের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। তবে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে সকল আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।