স্টাফ রিপোর্টার:শাকিল মোল্লা :
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত, ত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতীক” এই মহীয়সী নারীর স্মরণে কালীগঞ্জে আয়োজন*
**কালীগঞ্জ, গাজীপুর, ১৬ আগস্ট ২০২৫** —
জনতার দলের বিপ্লবী মহাসচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আজম খানের মাতা, **শহীদ জননী খাতেমুন্নেছা খানম**-এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বেরুয়া গ্রামে পারিবারিক বাসভবনে কোরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে দুই সন্তান হারানো এই রত্নগর্ভা মা ১৯৯৫ সালের ১৫ আগস্ট ইন্তেকাল করেন।
🔹 অনুষ্ঠানের বিবরণ:
– **আয়োজক:** মরহুমার পরিবার ও জনতার দল, কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা।
– **স্থান:** বেরুয়া, আজম খানের বাড়ি (কালীগঞ্জ, গাজীপুর)।
– **সময়:** শনিবার (১৬ আগস্ট) বাদ আসর (সন্ধ্যা ৫:৩০টার পর) ।
– **কর্মসূচি:**
– কোরআন খতম
– বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
– শহীদ দুই পুত্রসহ পরিবারের সকল মৃত সদস্যের রুহের মাগফিরাত কামনা ।
বীরত্বব্যঞ্জক ইতিহাস:
খাতেমুন্নেছা খানম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক ট্র্যাজিক প্রতীক। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁর দুই সন্তান **শহীদ সার্জেন্ট সিরাজ খান** ও **শহীদ ছাগীর খান**-কে আটক করে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। স্বাধীনতার পরও তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই মর্মান্তিক ক্ষয়ক্ষতি বুকে নিয়েই তিনি আমৃত্যু দেশের মানুষের অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন ।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য:
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”-এর মাধ্যমে কোনো কাজ শুরু করলে তা আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করে। হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে:
> *”যে আমল বিসমিল্লাহ বলে শুরু হয়, তা আল্লাহ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয় না”* ।
এই বিশ্বাসের আলোকেই অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে, যাতে মরহুমার আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করা হয়।
অংশগ্রহণকারী ও শোকার্ত পরিবার:
জনতার দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজম খানসহ পরিবারের সদস্যরা শহীদ জননীর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে **”বিসমিল্লাহ”**-এর মাধ্যমে সকল কর্মের সূচনা করেন ।
স্থানীয় প্রভাব:
কালীগঞ্জের বাসিন্দাদের কাছে খাতেমুন্নেছা খানম **”শহীদ জননী”** হিসাবে পরিচিত। তাঁর স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে ত্যাগ, দেশপ্রেম ও আধ্যাত্মিক চেতনার মেলবন্ধনকে তুলে ধরে। গাজীপুরের সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজও এই আয়োজনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে ।
> “ভয়ে কাপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর” — এই বাক্যটি যেন খাতেমুন্নেছা খানমের জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন । তাঁর মতো মহান মায়েদের ত্যাগই বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের অম্লান অধ্যায়।